মোঃ ফয়সাল হাওলাদার
তোমার অভাবে
আমার শরীর জুড়ে নেমেছে এক দীর্ঘ,
অনিবার্য মন্বন্তর—
পাঁজরের ফাঁকে ফাঁকে
জারি হয়েছে ক্ষুধার নীরব শাসন,
শ্বাসগুলো কাঁপে অনাহারের অনুবাদে!
প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন
অর্ধমৃত এক আর্তনাদের খসড়া।
দিন আসে, দিন যায়—
শরীর জুড়ে নামে রোদ,
তবু তৃপ্তি নামে না কখনোই।
আলো থেকে উষ্ণতা নির্বাসনে,
সূর্য যেন কেবল
দূর কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক—
দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।
রাত নামলেই
ক্ষুধার হাহাকার ঘন হয়ে ওঠে,
ঘড়ির কাঁটা এগোয় নিয়ম মেনে,
কিন্তু বুকের ভেতর
অভাবের ঢাক বাজে অবিরাম,
সময় নয়, যেন শোক গুনে চলে।
আমি দিন চালাই
স্মৃতির অন্নে—
পুরনো কথার ঝরঝরে গন্ধ,
চোখের মিশিয়ে নিই নোনা জল,
তোমার নামেই জ্বলতে থাকে
দীর্ঘ বেঁচে থাকার আয়োজন।
প্রতিটি গ্রাসে—
একটু করে ক্ষয় হই আমি।
এক ফোঁটা আদর—
মাত্র এক ফোঁটা—
হলেই হয়তো
প্রাণটা ফিরে আসত!
এই শরীরের রাষ্ট্রে
লাগু হতো বেঁচে থাকার আইন।
নইলে, রোদেলা জানো—
বুকের ভেতরেই চলবে
অন্তহীন দুর্ভিক্ষের
নিঃশব্দ ত্রাণশিবির—
যেখানে আমি প্রতিদিন
নিজেকেই লাইনে দাঁড় করাই,
আর অপেক্ষা করি
তোমার অনুপস্থিতির
শেষ ঘোষণার।