শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জনস্বার্থে প্রশাসন-পুলিশ ও সাংবাদিকদের একযোগে কাজের প্রত্যয়, বালিয়াডাঙ্গীতে ইফতার ও মতবিনিময় আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাণীশংকৈলে গৃহবধূ ও শিশুর ওপর হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ধানের শীষের জয়, ৩৭ বছর পর নতুন মুখ সংসদে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: তুলি ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে: শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ্ মওলানা ভাসানীর ১৪৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এনডিপির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রতিশ্রুতি গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ। রাণীশংকৈলে দৈনিক জনকন্ঠের সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি দলিত-হরিজনরা এখনো বৈষম্যের শিকার-শুভ চন্দ্র শীল

চাল নিতে হাজার টাকার বাণিজ্য, দায় এড়াতে প্রত্যয়নে লিখে নিচ্ছেন ‘টাকা দেইনি

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডাব্লিউবি) কর্মসূচির চাল নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে সুবিধাভোগীদের। চাল বিতরণের স্লিপ দেওয়ার সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে ‘১০০ টাকা বাকি’ লিখে রাখা হয়েছে এবং তাদের দিয়ে ‘টাকা দেইনি’ মর্মে একটি লিখিত প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষরও করানো হচ্ছে।

শনিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন পরিষদে এমন ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন পরিষদে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ৩০৫ জন নারী সুবিধাভোগীর মাঝে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতি জনকে দেওয়া হচ্ছে ৫ বস্তা করে ৩০ কেজির চাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। আর এসব চাল নিতে আসা সুবিধাভোগীদের কাছে ১ হাজার টাকা নিয়ে ১০০ টাকা বাকী লিখছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। কেউ কেউ ১ হাজার ১০০ টাকায় পরিশোধ করছেন। অনেকে আবার টাকার জন্য স্লিপ পাননি বলে জানান।

চাল নিতে আসা ভানোর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কাশিডাঙ্গী গ্রামের শিউলি আকতারের স্বামী জানান, আমাদের চাল দেওয়ার জন্য মহিলা ইউপি সদস্য কুলসুম ১ হাজার টাকা করে নগদ নিছে। ১০০ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নেওয়ার কথা বলেন। তাই জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপিতে ১০০ টাকা বাকী লিখে দেন।

চাল নিতে আসা মরিয়ম বেগম জানান, তিনি চাল নেওয়ার জন্য ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়েছেন ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামকে।

৪ নং ওয়ার্ডের খাদেমুল ইসলাম বলেন চাল নেওয়ার জন্য তিনি ইউপি সদস্য সাদেকুল ইসলামকে ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়েছেন।

টাকা নেওয়ার ঘটনা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যান ইউপি সদস্যরা। পরে তাদের সাথে মুঠোফোনে কল দিলে কল রিসিভ করেনি।

চাল বিতরণ করছেন ইউপি কার্যালয়ের চাল বিতরণ করছেন ইউপি সচিব হাবিবুল্লাহ ও উদ্যোক্ত নবাব আলী। ট্যাগ অফিসার হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মমিনুর রহমান। চাল বিতরণের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে স্লিপ এবং অতিরিক্ত আরেকটি আবেদন জমা নিচ্ছেন ইউপি সচিব। যেখানে লেখা আছে, ‘চাল উত্তোলনের জন্য কাউকে টাকা দেয়নি’।

জানতে চাইলে ভানোর ইউপি সচিব হাবিবুল্লাহ জানান, চালের বিপরীতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই এসে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলেছেন। সুবিধাভোগীরা ইউএনও স্যারকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন। যার ভিডিও রেকর্ড রয়েছে স্যারের কাছে।

‘সুবিধাভোগীদের নিকট ‘চাল উত্তোলনের জন্য কাউকে টাকা দেয়নি’ এমন স্বীকারোক্তি নিয়ে স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন কেন নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বাঁচার জন্য নিচ্ছি’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার দেবনাথ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সুবিধাভোগীদের নিকট টাকা নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। ইউপি সচিবকে একটা লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যে সকল ইউপি সদস্য জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হবে।

এদিকে ৩০৫ জন সুবিধাভোগীকে অনিয়মের বৈধতা দিতে আবেদন লিখতে হচ্ছে স্থানীয় কম্পিউটার দোকানে। সেখানে আরও অতিরিক্ত ৩০ টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের



লাইক করুন