ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাঘবপুর (বগুলাভাঙ্গী) এলাকায় এক গৃহবধূ ও তার ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্রের ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. সায়েমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তার স্বামীর বড় ভাই ভেলাই দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ফারুক হোসেন (৫০) ও তার স্ত্রী মোছা. সোনালী বেগম (৪৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঢাকায় স্ব-পরিবারে বসবাস করেন। সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্কুল ছুটি থাকায় তিনি ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে স্বামীর বাড়ির ভাড়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ির সামনে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
প্রতিবাদ করলে মাদ্রাসা সুপার মো. ফারুক হোসেন গাছের মোটা কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে তার দুই হাত জখম হয় এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় মোছা. সোনালী বেগম দা’র কাঠের বাট দিয়ে তার শরীর ও পিঠে আঘাত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তার হিজাব খুলে শ্লীলতাহানি করা হয়। তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা ও দুটি স্বর্ণের কানের দুল জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দা দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেন এবং ফলজ গাছপালা কেটে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। একপর্যায়ে বাড়িতে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তার শিশুপুত্রকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা মামলা করলে তাকে ও তার শিশুকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং বর্তমানে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মো. ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।